| বঙ্গাব্দ

জন্মাষ্টমী উৎসবে সেনাপ্রধান: “এই দেশ সবার, কোনো ভেদাভেদ থাকবে না” | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 17-08-2025 ইং
  • 3437948 বার পঠিত
জন্মাষ্টমী উৎসবে সেনাপ্রধান: “এই দেশ সবার, কোনো ভেদাভেদ থাকবে না” | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: সেনাপ্রধান

এই দেশ সবার: জন্মাষ্টমীর উৎসবে সেনাপ্রধানের সম্প্রীতির বার্তা

ঢাকা: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, এই দেশ সবার, এখানে ধর্ম, জাতি, বর্ণ ও গোত্রের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে জন্মাষ্টমীর কেন্দ্রীয় উৎসব ও মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমাদের সবার সমান অধিকার এই দেশের ওপর আছে। কোনো ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ থাকবে না। সবাই আমরা এ দেশের নাগরিক। আমরা একসঙ্গে সামনের সোনালি দিনগুলো দেখতে চাই।”

সেনাপ্রধানের বার্তা

তিনি হিন্দু সম্প্রদায়কে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনারা নিশ্চিন্তে এ দেশে বসবাস করবেন। আপনারা ধর্মীয় উৎসব আনন্দের সঙ্গে পালন করবেন, আমরাও আপনাদের সঙ্গে সেই আনন্দ ভাগাভাগি করব। সম্প্রীতির পরিবেশ আমরা সব সময় বজায় রাখব।”

উৎসব চলাকালে বাদ্যের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের উচ্ছ্বাসের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এই আনন্দে আমাদেরকে সঙ্গে নেওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনারা যত ধরনের সহযোগিতা চান, আমরা সবসময় পাশে থাকব।”

নৌবাহিনী প্রধানের বক্তব্য

এর আগে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, জন্মাষ্টমী কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়; বরং শান্তি, সম্প্রীতি এবং মানবতার এক উদাত্ত আহ্বান। তিনি উল্লেখ করেন, “শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা শুধু অসত্য-অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহসই দেয় না, সমাজে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতা প্রতিষ্ঠায়ও অনুপ্রাণিত করে।”

বিমানবাহিনী প্রধানের বক্তব্য

এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বলেন, “সত্যের পথে অটল থাকতে হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়াতে হবে। সবার সঙ্গে সৌহার্দ্য ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি নিজের পুরান ঢাকার শৈশব স্মৃতিচারণ করে বলেন, “পলাশীর মোড় থেকে দূরে নয়, জয়কালী মন্দিরের পাশেই আমার বাড়ি ছিল। লক্ষ্মীবাজারে বড় হয়েছি। ছোটবেলা থেকেই হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বড় হয়েছি, ধর্ম নিয়ে কখনো ভেদাভেদ করিনি।”

আয়োজক কমিটি

জন্মাষ্টমীর এ উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ও শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির। অনুষ্ঠানে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. মঈন খানও উপস্থিত ছিলেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের ইতিহাসে ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়টি সব সময় আলোচনায় ছিল। ১৯৫০-এর দশক থেকেই পূর্ব পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে নানা আন্দোলন হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়েছে।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের সংবিধানে চার মূলনীতির একটি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অন্তর্ভুক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সামরিক শাসনের সময় ধর্মনিরপেক্ষতার ধারা দুর্বল হলেও আবার তা ফিরে আসে নব্বইয়ের দশকে গণআন্দোলনের পর।

২০০০ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। ২০১৬ সালে গুলশান হামলার পর সরকার বারবার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছে এবং ধর্মীয় সহনশীলতার উপর জোর দিয়েছে।

২০২৫ সালে এসে সেনাপ্রধানসহ তিন বাহিনী প্রধানের একসঙ্গে জন্মাষ্টমীর মিছিলে উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি দেখায় যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা আরও জোরালোভাবে প্রচার করা হচ্ছে।


সূত্র

  • বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ

  • যুগান্তর, কালের কণ্ঠ ও অন্যান্য জাতীয় দৈনিক

  • মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আর্কাইভস

  • সরকারি সংবিধান সংকলন ১৯৭২ ও ১৯৭৫ সংশোধনী

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency